1. admin@dainikdesherkontho.com : admin :
বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

আমার বাবা যুদ্ধ করেছেন বলে আজ তোমরা পুলিশ

দৈনিক দেশের কন্ঠ
  • Update Time : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৩৬ Time View

মহানগর প্রতিনিধি | করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষিত ৮ দিনের লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস বন্ধ রাখা হলেও জরুরি সেবাগুলো খোলা রাখা হয়েছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ জনগণ ঘরের বাইরে বের হতে হলে পুলিশের কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস ইস্যু করতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের চলাচলে মুভমেন্ট পাসের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এরপরও লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়।

গেলো গত বুধবার মুভমেন্ট পাস না থাকায় রাজধানীতে বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে আটক করার পাশাপাশি জরিমানাও করে পুলিশ। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানায় চিকিৎসকেরা। পুলিশের জরিমানার কাগজ দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন এক চিকিৎসক। স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হলে সেই চিকিৎসকের জরিমানার টাকা মওকুফ করা হয়। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুল ইসলামের জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে। এবার ফের চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যমসহ মূল ধারার গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। সেখানে চিকিৎসক বলছেন তিনি বীর বিক্রমের মেয়ে, ম্যাজিস্ট্রেট নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আর পুলিশ পরিদর্শক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন আর বাকবিতণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনের দায়িত্ব পালনের সময়ে চেকপোস্টে চিকিৎসকের গাড়ি দাঁড় করিয়ে পুলিশ তার আইডি কার্ড চাচ্ছেন। অন্যদিকে চিকিৎসক পুলিশকে বলছেন- আমি বীর বিক্রমের মেয়ে। আমার বাবা যুদ্ধ করেছিল বলেই তোমরা পুলিশ হয়েছো। তখন পুলিশ সদস্য পাল্টা জবাবে বলেন, ‘আমরাও ভেসে আসিনি। আমিও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আপনার বাবা একা যুদ্ধ করে নাই।’

রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সরকারি বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে এভাবেই বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। তিন পক্ষের বাগবিতণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইবা শওকত জিমি ভ্রাম্যমাণ আদালতের চেকে পড়েন। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ আদালত পরিচালনা করছিলেন। নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন।

চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান চিকিৎসক জিমি। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। এসময় জিমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। জিজ্ঞাসা করেন, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে?

তিনি গাড়িতে বিএসএমএমইউ স্টিকার ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তার লিখিত পাস দেখান। এরপরও পুলিশ তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় জিমি আরও উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে বলেন, ‘আমি ডাক্তার। করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি। আপনারা কয়জন মরছেন। আমরা ১৩০ জন মরেছি।’ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আপনি ধমক দিচ্ছেন কেন? আমরা প্রশাসনের লোক। ১০০ বার আপনার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাইতে পারি।’

এরপর চিকিৎসক বলেন, ‘আমি বীর বিক্রমের মেয়ে।’ তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমিও বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আমরা কি ভাইসা আসছি নাকি?’
‘আমি শওকত আলী বীর বিক্রমের মেয়ে। আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল বলেই তোমরা পুলিশ হয়েছ।’ এ সময় সেখানে দায়িত্বরত নিউ মার্কেট থানা পুলিশের পরিদর্শক বলেন, ‘আমিও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আপনার বাবা একা যুদ্ধ করে নাই।’

চিকিৎসক জিমি গাড়িতে উঠতে উঠতে বলতে থাকেন, ‘ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।’তখন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘কোনো ডাক্তার হয়রানি হচ্ছে না।’

এরপর গাড়ি রাস্তার একপাশে নিয়ে তিনি (চিকিৎসক জিমি) কেন খারাপ ব্যবহার করেছেন, তা জানতে চান ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি আমাকে তুই-তুকারি করতে পারেন না। জীবন আমরাও দিচ্ছি। আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন। আমরা কি ভাইসা আসছি?’
এরপর একজন মন্ত্রী ফোন করেছেন বলে মোবাইল ফোন ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে এগিয়ে দেন চিকিৎসক জিমি। কিছু সময় কথা বলার পর মোবাইল তার কাছে ফেরত দেন ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশিদ।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি প্রশাসনের লোক। ইউনিফর্ম থাকার পরও সঙ্গে আইডি কার্ড আছে।’ তখন চিকিৎসক বলেন, ‘আমি ডাক্তার। গায়ে অ্যাপ্রন আছে। আপনি মেডিকেলে চান্স পাননি বলে পুলিশ হয়েছেন।’

এরপর চিকিৎসক জিমি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনকে ফোন দিয়ে কথা বলতে বলেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয়বার কথা বলেননি। তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

চিকিৎসক জিমি দীর্ঘ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশকে স্যরি বলতে বলেন। শেষপর্যন্ত পুলিশ স্যরি বলেছে কি না, তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে চিকিৎসক সাইবা শওকত জিমি গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা মহামারি এই সময়ে পুলিশ চেকপোস্টে একজন নারী চিকিৎসককে যেভাবে অপমান করেছে তা সভ্য কোনো দেশে হতে পারে না। আমি একজন বীর বিক্রমের মেয়ে। আমার বাবা কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পাঁচবারের চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাই নামে চেনেন। তারপরও এ ধরনের আচরণ করেছে তারা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী সচিব শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, তার (চিকিৎসক) কাছে আইডি কার্ড চাইতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আমাদের গালিগালাজ করতে থাকেন। তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেও পারিনি। একপর্যায়ে বিএসএমএমইউ থেকে ডাক্তাররা এসে ওনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে স্যরি বলেছেন। ডাক্তারদের ভুয়া অ্যাপ্রন লাগিয়ে অনেকেই রাস্তায় বের হয়েছেন। তার আইডি কার্ড নাই, সেটা ভালোভাবে বললেই আমরা ছেড়ে দিতাম। কিন্তু তিনি পুলিশের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তাতে রীতিমতো অবাক হয়েছি। তারপরও চেষ্টা করেছি বিষয়টি সামাল দিতে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। © All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It