1. admin@dainikdesherkontho.com : admin :
বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সোনিয়া প্রশাসনের সহায়তা সন্তানসহ ঘরে ফিরলেন

দৈনিক দেশের কন্ঠ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১১৩ Time View

নাটোর প্রতিনিধি | নাটোর নলডাঙ্গা উপজেলায় প্রশাসনের সহযোগিতায় লকডাউনের মধ্যে বিশেষ নিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিস অ্যাম্বুলেন্সে করে বাবার বাড়ি ফিরেছেন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সোনিয়া খাতুন ও তার শিশু সন্তান। সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ি পাঠানো হয় তাকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নলডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন, নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম, নাটোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা, বিসমিল্লাহ ক্লিনিকের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন, মাধনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান।

সোনিয়াকে রিসিভ করেন চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব আল রাব্বি। পরে তিনি সোনিয়ার পরিবারের লোকজনের কাছে পৌঁছে দেন।
গত বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাটায় তখন রাত ৯টা। নাটোরের মাধনগর রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্মে প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলো সোনিয়া খাতুন (২০) নামে এক নারী। অসহ্য যন্ত্রনায় চিৎকার করলেও তার কাছে এগিয়ে আসেনি স্টেশন প্লাটফর্মে অবস্থানরত মানুষরা। অনেকেই দূর থেকে তাকিয়ে দেখেছিলেন। আবার কেউ কেউ কাছে গেলেও সোনিয়ার যন্ত্রনা আর সুস্থতা নিয়ে ভাবেনি। মানসিক প্রতিবন্ধী বা পাগল ভেবে কেউ তার কাছে যেতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু রাত যখন গড়িয়ে ১০ টার কাছাকাছি, ঠিক সেই সময় তার যন্ত্রণার মাত্রা আরো বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে প্রসব বেদনায় চিৎকার আর কান্নাকাটির আওয়াজে চারপাশের পরিবেশ যেন ভারি হয়ে ওঠে। এমন সময় এগিয়ে আসেন নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনাগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ও স্থানীয় কিছু লোকজন।

সোনিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রমাণ করেন তারা। সোনিয়ার অবস্থার অবনতি দেখে তাৎক্ষনিকভাবে উদ্ধার করে নলডাঙ্গা বাজারে বেসরকারি বিসমিল্লাহ ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসার দেয়ার পর অবশেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বাভাবিকভাবে তার একটি সন্তান ভূমিষ্ট হয়। সোনিয়ার কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান।

বর্তমানে মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ আছে। এবার সন্তানের বাবার পরিচয় পেতে চান সোনিয়া। অথচ গত এক বছর ধরে তার স্বামীর সন্ধানে বহু স্থান ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাননি। বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশনসহ পথে ঘাটে স্বামীর সন্ধানে গর্ভবতী অবস্থায় ছুটে বেড়িয়েছে।

সোনিয়া খাতুন জানান, তার জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর গ্রামে। বাবার নাম মঞ্জু, দুই ভাই রিমন ও শিমুল এবং তার এক সৎ মা রয়েছে। সেখানেই তারা বসবাস করেন। পরিচয়হীন ছেলেকে বিয়ে করার কারণে পরিবারের লোকজন তাকে দেখতে পারে না। তাই সেখানে যেতেও পারেনি সোনিয়া।

সোনিয়া বলেন, মা মারা যাওয়ার পর সৎ মায়ের কারণে বাড়িতে ঠিকমত খাবার জুটতো না। পরে ভিক্ষা করি। ট্রেনের মধ্যে অচেনা এক ছেলের সাথে পরিচয় হয়। বিয়ে করে ছেলেটির সঙ্গে সংসার করি। সরলতার সুযোগে আমাকে ছেড়ে ছেলেটি। এরইমধ্যে গর্ভবতী হয়ে পড়ি। গর্ভবতী অবস্থায় গত এক বছর ধরে নাটোরের আব্দুলপুর রেলস্টেশনে বসবাস আর বিভিন্ন জনের কাছে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। স্থানীয় এক পরিচিতজনের পরামর্শে স্বামীকে খুঁজে বের করার জন্য বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) বিকেলে আলী হায়দার নামে এক ভ্যানচালককে সাথে নিয়ে উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে সান্তাহারের উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথে ট্রেনের ভিতর প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর রেল স্টেশনে নেমে পড়ি। এক পর্যায়ে রাতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নলডাঙ্গা বাজারের বিসমিল্লাহ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই শিশুটির জন্ম হয়।
বিসমিল্লাহ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়ারেছুন নাহার জেসি জানান, মা ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছেন। তবে বাচ্চাটি মায়ের বুকের দুধ একটু কম পাচ্ছে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান বলেন, মানবিক কারণে ওই মেয়েকে প্রসব বেদনা অবস্থায় বিসমিল্লাহ হাসপাতালে ভর্তি করাসহ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যার মেয়েটির সবসময় খোঁজ খবর নিয়েছেন। মেয়েটি যাতে তার ভুমিষ্ঠ শিশুটিকে নিয়ে অভিভাবকদের কাছে ভালো ভাবে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন, অর্থ সহায়তাও করেছেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। মেয়েটি যাতে তার শিশু সন্তানকে নিয়ে অভিভাবকের কাছে ভালোভাবে ফিরে যেতে পারে এবং যাতে ভাল পরিবেশে থাকতে পারে সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। © All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It