1. admin@dainikdesherkontho.com : admin :
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

মামুনুল হক একটা ‘গাদ্দার’: সেই নারীর ছেলে

দৈনিক দেশের কন্ঠ
  • Update Time : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ১০৮ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীকে নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। মামুনুল হকের দাবি, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি অবৈধ কোনো সম্পর্কে জড়াননি। এরইমধ্যে এই আলোচিত বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মামুনুল হকের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করা ওই নারীর ছেলে আব্দুর রহমান। সোমবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আব্দুর রহমান তিন মিনিট দুই সেকেন্ডের একটি বক্তব্য দেন। যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আপনারা কারো অন্ধ ভক্ত হইয়েন না। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস কইরেন না। কারণ সবারই আড়ালে আরেকটা চেহারা থাকে। এই লোকটা আলেম নামধারী মুখোশধারী একটা জানোয়ার। তার মধ্যে কোনও মনুষ্যত্ব নেই। সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কাকে কীভাবে দুর্বল করা যায়।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি তো অলরেডি বড় হয়ে গেছি, অনেক কিছু শিখছি, জানছি, ম্যাচুরিটির একটা ভাব আইছে। আমি কিছুটা সহ্য করে নিতে পারি, কিন্তু আমার তো একটা ছোট ভাই আছে, তের-চৌদ্দ বছর বয়স। কেবল উঠতি বয়স। এই সময়ে মানুষের কত কথা শোনা লাগতেছে। সমাজের সামনে আইসা মুখ দেখাইতে পারতেছি না। আমার ছোট ভাইটা কাল রাতে যখন এই ঘটনটা ঘটলো, ও কোনোদিন আমি দেখি নাই রাত তিনটা-চারটা পর্যন্ত জাইগা রইছে। কাল দেখি ওর চোখে কোনও ঘুমই নাই। ও বিষয়টা নিয়ে টোটালি মেন্টালি শকড হইছে। ও বাসা থেকে বের হয়ে গেছিল। বাসায় থাকলে কি উল্টা-পাল্টা করবো আমি নিজেও জানি না, এইটা বইলা বের হয়ে গেছে।’

আব্দুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি বলবো যে, এটা আমার বাবার কর্মের ফল। আমার বাবা মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। পাগলের মতো ভালোবাসে। ওই লোকটার (মাওলানা মামুনুল হক) কিছুদিন আগে মোল্লারহাটে একটা মাহফিল ছিল। সেখানে পুলিশ তাকে মাহফিল করতে দেবে না। সে একটা জায়গায় লুকিয়ে ছিল। আমার বাবা সেইটা দেইখা কীভাবে যে কাঁদছে। তার আগেই বিষয়টা আমি জানছি যে, আমার মায়ের সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল। আমি তখন হাসতেছিলাম যে, এই লোকটা যার জন্য কানতেছে আর ওই লোকটা (মাওলানা মামুনুল হক) এই লোকটার (বাবা শহীদুল ইসলাম) সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতেছে। তারপরে যখন ওনাকে (বাবা শহীদুল ইসলাম) জেলে নিল, মাওলানা মামুনুল হককে জেলে নিল, তখন আমার বাবা থানার ওসি কামরুজ্জামানকে বলে যে, আমাকে রেখে ওনাকে ছেড়ে দেন। কতটা ভালোবাসলে একটা মানুষকে এই কথা বলতে পারে। আর সেই লোকটা কীভাবে গাদ্দারি করলো।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘আরও আগের ঘটনা যখন ডিভোর্স হয়নি, আমি তখন অনেক ছোট। আমার ছোট ভাই আরও অনেক ছোট, দুগ্ধ শিশু ছিল। তখন আমার বাবা বাসায় ছিলেন না। তখন আমি ছিলাম। আমি ঘুমায়া ছিলাম নাকি বাইরে ছিলাম। আমার মা নাকি আমার ছোট ভাইকে দুগ্ধ পান করাচ্ছিল, তখন উনি আমার মায়ের রুমে ঢুকে গিয়ে একটা কুপ্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমার মা সেটা প্রত্যাখান করেছিল, না এটা কোনোদিনই সম্ভব না। আপনি তো ঠকাচ্ছেন, আপনার কাছের মানুষটাকে, বন্ধুকে। সে তখন ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার একটা তখনই মনে কামভাব ঢুকে গেছে। সে লোভ সামলাইতে পারতেছিল না। সে একটা সুযোগে ছিল, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে সে এইটা বুঝতে পারে নাই। যখনই সুযোগ পাইছে এনাদের মধ্যে ডিসট্যান্স বাড়াইয়া দিছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তো ঝগড়া হবেই। সে তখনই নক করছে। তখন দুই জনের মধ্যে আরও ডিসট্যান্স বাড়াইয়া দিছে। এইভাবে করে সে একটা পরিবারের খুশি, ভালোবাসা, একটা পরিবারের মধ্যে যে মিলমিশ সম্পর্ক পুরোপুরি সে ধ্বংস করে দিছে। আরও যে এভাবে কত মানুষের, কত পরিবারের ভালোবাসা যে ধ্বংস করে দিছে এর কোনও ঠিক নাই।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করবো, এর যেন সঠিক বিচার হয়। আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস কইরেন না। কারণ সবারই আড়ালে আরেকটা চেহারা থাকে। এই লোকটা আলেম নামধারী মুখোশধারী একটা জানোয়ার। তার মধ্যে কোনও মনুষ্যত্ব নেই। সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কাকে কীভাবে দুর্বল করা যায়। আমার আর কিছু বলার ভাষা নাই

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। © All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It